রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চু্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে ব্যাপক আলোচিত প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন? যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে সরকার ও বিএনপির নেতারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনাসহ নানা প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম এই আলোচনায় উঠে এসেছে সবচেয়ে বেশি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান এই পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করছেন। পাশাপাশি, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল নির্ধারক। এই কারণেই বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। রাজনীতিতে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। দলের সূত্র জানাচ্ছে, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা এবং সংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার নাম যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০০১-২০০৬ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতা হিসেবে তার নামও রাষ্ট্রপতিপদে আলোচনা চালাচ্ছে।
ড. আবদুল মঈন খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান একাধিকবার সংসদ সদস্য ও বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে তারও নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থীদের মধ্যে উঠে এসেছে।
অপর দিকে, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্যে নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে থাকেন। সেই সঙ্গে তার নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।









