ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নরসিংদীর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিক্রির সিদ্ধান্ত ডরিন পাওয়ারের

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড এখন নরসিংদীতে অবস্থিত তাদের ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব স্থায়ী (নন-কারেন্ট) সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন বোর্ডের (বিআরইবি) সঙ্গে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, বিআরইবি চুক্তি নবায়নে অনিচ্ছুক থাকায় কোম্পানিটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে, কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আগামী বছর দুটি ঘটনা এই পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। গত বছর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চুক্তি নবায়ন না করায়, ডরিন পাওয়ার টাঙ্গাইল ও ফেনীর ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছিল। এই ধারাবাহিকতায়, এবার নরসিংদীর কেন্দ্রটি বন্ধে নেওয়া হলো সিদ্ধান্ত।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ডরিন পাওয়ারের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই সময়ে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১ টাকা ৪৮ পয়সা। এছাড়াও, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ২৪ পয়সায়।

বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে, শুধুমাত্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এই বছর, ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৮১ পয়সা। এর আগে, ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ হিসাব বছরেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যথাক্রমে ১০ ও ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (সিআরআইএসএল) মূল্যায়ন অনুযায়ী, ডরিন পাওয়ারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এ প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানি ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং রিজার্ভ রয়েছে ৬৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকার। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬৬.৬১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের, ১৯.৪৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এবং বাকি ১৩.৯৬ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।