ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনায় এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এটি চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের স্থায়ী বসবাসের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চীন ও রাশিয়ার একই ধরনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে ওই দেশগুলো চাঁদে একটি ‘কিপ-আউট জোন’ ঘোষণা করতে পারে।

যদিও নাসার সাম্প্রতিক বাজেট হ্রাস ও পরিকল্পনার বাস্তবতা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে, তবুও বিজ্ঞানী ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা এটিকে বহুমুখী গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বিশেষ করে, চাঁদের কঠিন পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সরবরাহের অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে পারমাণবিক শক্তির চুল্লির ধারণাটি সমর্থিত। চাঁদের একটি দিন পৃথিবীর প্রায় চার সপ্তাহের সমান, যেখানে দুই সপ্তাহ অবিরাম আলো ও দুই সপ্তাহ অন্ধকার থাকে, তাই সৌর শক্তিতে নির্ভরশীলতা সীমাবদ্ধ।

মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি এক সাক্ষাতকারে বলেন, “চাঁদের অর্থনীতি, মঙ্গল গ্রহে উচ্চ শক্তি উৎপাদন, এবং মহাকাশে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পারমাণবিক চুল্লির প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর করা অপরিহার্য।” তিনি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কমপক্ষে ১০০ কিলোওয়াট শক্তি উৎপাদনে সক্ষম চুল্লি তৈরি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২২ সালে নাসা তিনটি কোম্পানিকে ডিজাইনের জন্য চুক্তি দিয়েছিল, আর চলতি বছরের মে মাসে চীন ও রাশিয়া চাঁদে একটি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় অব সারের মহাকাশ প্রযুক্তিবিদ ড. সঙ্গউ লিম বলেন, “চাঁদে ছোট একটি আবাসস্থল গড়তে মেগাওয়াট স্তরের শক্তি প্রয়োজন, যা কেবল পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে সম্ভব।” কিন্তু কিছু নিরাপত্তাজনিত প্রশ্নও রয়েছে। ওপেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. সিমিপন বারবের বলেন, পারমাণবিক পদার্থ মহাকাশে উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগগুলি অবশ্যই সমাধানযোগ্য হলেও তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

নাসার এই উদ্যোগকে অনেকেই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছেন। ড. বারবের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মহাকাশ প্রতিযোগিতা নতুন উদ্ভাবন আনতে পারে, কিন্তু যদি জাতীয় স্বার্থের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, তাহলে বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণার বৃহত্তর লক্ষ্য থেকে আমরা বিচ্যুত হতে পারি।”

বর্তমানে ‘আর্টেমিস চুক্তি’র মাধ্যমে সাতটি দেশ চাঁদে সম্মিলিতভাবে কাজ করার নিয়ম নির্ধারণ করেছে, যেখানে একটি ‘সেফটি জোন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লি বা অন্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

যদিও নাসার আর্টেমিস ৩ মিশনের লক্ষ্য ২০২৭ সালে চাঁদে মানুষের পাঠানো, তহবিলের সংকট ও প্রযুক্তিগত বাধার কারণে প্রকল্পটি এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে। তবুও, নাসা ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ের জন্য চাঁদে স্থায়ী বসবাস ও শক্তি সম্পদ গড়ে তোলার এই পরিকল্পনা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।