ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি, পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে গর্বের মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি পবিত্র কোরআনে হাত রেখে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। তিনি শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথের বিশেষত্ব ছিল সেটি ছিল সিটি হলের নিচে সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য এই পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনটি انتخاب, যা কর্মজীবী মানুষের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে নেওয়া হয়। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক নেতা রাজনৈতিক জীবনে জীবনের ব্যয় কমানো এবং জনকল্যাণের জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শপথ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও সৌভাগ্য ব্যাখ্যা করেন।

মামদানি এর রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্যগুলো মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া স্থগিত রাখা, সব শিশুর জন্য অবাধ ও সার্বজনীন যত্ন ব্যবস্থা চালু করা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। বিশ্লেষকরা তাঁর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও, তিনি হয়তো এই লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির বিরুদ্ধে তিনি নিউইয়র্কের অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবার অঙ্গীকার করেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হলেও, ভবিষ্যতে অভিবাসন বিষয়ক গুরুত্বপুর্ণ সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ভোটাররা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মামদানির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন।

আজ বৃহস্পতিবার তিনি একটি বড় প্রাঙ্গণে নবীনভাবে শপথ গ্রহণের আয়োজন করবেন। এই আনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথির উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবেন বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংגרেস মহিলা সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ। পাশাপাশি, এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হবে মামদানির পরিবারের সংগ্রহ ও লেখক আরতুরো শোমবার্গের সংগ্রহ থেকে আনা তিনটি বিশেষ কোরআন শরীফ। নিউইয়র্কের এই চার বছর মেয়াদী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মামদানির শপথগ্রহণ শুধুমাত্র আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে অভিবাসী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।