নির্বাচনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা একযোগে নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে, এটাই আমরা সবাই প্রত্যাশা করি।’’
মঙ্গলবার (২৪ জুন) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ‘আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা শুধু বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের সঠিক মনোভাবও অবিচ্ছেদ্য। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে শুধু বাহিনী নয়, পোলিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদেরও ভূমিকা অপরিহার্য।’’
রাতের ভোটগ্রহণকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা জানান, ‘‘আপনারাও তখন মাঠে ছিলেন এবং কোন অভিযোগ করেননি।’’
তিনি পুলিশকে দায়িত্ব দিয়ে বলেন, ‘‘রাতের ভোট যেন না হয় সেটি নিশ্চিত করতে শুধু পুলিশ নয়, সব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের দক্ষতায় পুরো নির্বাচন নির্ভরশীল হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। আজকের সভায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা মাথায় রেখে কাজ করব।’’
আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি, তাদের ক্রিয়া-কলাপ এখন কমজোর হয়ে যাচ্ছে।’’
সাবেক নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত ‘মব জাস্টিস’ বিষয়ে তিনি জানান, ‘‘মবে জড়িতদের ফুটেজ দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলেও বঞ্চিত থাকবেন না।’’
মবে জড়িত কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সঠিক সংখ্যা এখনো বলতে পারছি না, তবে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’’
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এক সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করবে।







