ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচিত নেতা মুসাব্বিরের মরদেহ নয়াপল্টনে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে; বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির। তার মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই জানাজায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান অফিস কর্মকর্তা মুহা. রেজাউল করিমের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানাজা শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে দাফনের জন্য।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সন্ত্রাসী মুসাব্বিরের লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন তেজগাঁও থানা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ। গুলিতে দুজনেই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত আবু সুফিয়ান মাসুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, তাঁর পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে তাঁকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাসুদের বাসা কেরানীগঞ্জে হলেও তিনি সংগঠনিক কাজে কারওয়ান বাজার এলাকায় ছিলেন। এই অতর্কিত হামলায় পুরো এলাকা আতঙ্কে ভারী হয়ে গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম নিশ্চিত করেছেন যে, স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্র এই হামলা ঘটিয়ে থাকতে পারে। গোয়েন্দা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।