বগুড়ার সান্তাহার উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ শেষ করে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ২০ মিনিটে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস যাত্রীসহ রুটে চলাচল শুরু করলে নড়াচড়া স্বাভাবিক হয়।
ঘটনা ঘটে গতকাল বুধবার ভোর বা দুপুরের দিকে নয়—ঢাকা থেকে চিলাহাটি অভিমুখে যাত্রীবাহী নীলসাগর এক্সপ্রেসটি বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ভেদ করে বাগবাড়ী এলাকায় পৌঁছানোর পর দুপুর দুইটার দিকে লাইনচ্যুত হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম বলেন, দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের নির্দেশে উদ্ধারকার্য শুরু করা হয়। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। সারারাত ধরে কাজ চালিয়ে লাইনচ্যুত হওয়া নয়টি কোচ সরিয়ে ফেলা হয় এবং রেললাইন মেরামত করা হয়।
তিনি জানান, মেরামত কাজ এখনও চলমান থাকায় নিরাপত্তার কারণে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলবে। তবে জরুরি নিষ্কাশন ও লাইন পুনর্বহাল শেষে এই রুটে যাত্রীবাহী প্রথম ট্রেনটি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চলাচল শুরু করে। তিনি একই সঙ্গে ঈদের আগ মুহূর্তে এই দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এছাড়া ঘটনার কারণ নিরুপণের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার ও মেরামত কাজ চালিয়ে নেওয়ার পরেও নিরাপত্তা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা রাখা হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদে পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।








