গত কয়েক মাস ধরে উজান থেকে আসা বন্যার পানি এবং অতিবৃষ্টির কারণে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ঘাটে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত এই ভাঙনে সুতালড়ী, আজিমনগর ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, কয়েকশ বিঘা ফসলি জমিসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের হরিহরদিয়া এবং শ্রীলমপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকা এখন ভাঙনের সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত। ভাঙনের আতঙ্কে আশ্রয়ন কেন্দ্রের ১৪০টি পরিবার দিনরাত অসহায় অবস্থায় কাটাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২৪ বছর যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই আশ্রয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের প্রতি কোনো দায়িত্বশীল নজর রাখেনি জনসাধারণ কিংবা কর্তৃপক্ষ।
নদীমাতৃক ওই আশ্রয়নের ঘরগুলো পদ্মা নদীর প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। তাই দিনের পর দিন বাড়ছে ভাঙনের ধরন। স্থানীয় জয়পুর নতুন হাটবাজার, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ হাজার পরিবারের বসবাস অকেজো হয়ে পড়েছে। পদ্মার ভয়াবহ থাবায় বহু মানুষ তাদের প্রাণের সম্পদ, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া বসতভিটা হারাতে বসেছে। তারা স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাই রক্ষার জন্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পাচ্ছেন না। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়ার আঁখি বেগম জানিয়েছেন, স্বামী রহিজ উদ্দিন ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করতেন, যা নদীর পলকের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এর পর তারা কিভাবে বাঁচবেন, জানেন না।
আশ্রয়ন কেন্দ্রে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘নদী ভাঙনের কারণে বাসার পাশে সরতে হচ্ছে, কিন্তু নিরাপদ জায়গা নেই। পাশের নটাখোলা এলাকায় সোসাইটি নামে একটি এনজিও দখলে ৭৩ একর জমি রয়েছে, যা অস্থায়ী পাড়ি গড়ে দিয়ে আমাদের জন্য আশ্রয়স্থল করতে পারলে অনেক উপকার হতো। এই ভাঙন যেভাবে তীব্র হচ্ছে, মনে হয় বাপ-দাদার জমিটি আর থাকবেই না।’ একই এলাকার আছিয়া বেগম জানান, ‘এইবারের পদ্মার ভাঙনে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে। শুনেছি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রিতা আপা আমাদের পাশে আছেন। আমরা দোয়া করি তিনি আমাদের মাথা গোঁজার জায়গা করে দেবেন।’
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতার নির্দেশে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি হান্নান মৃধা বলেন, ‘বিস্তারিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি সব সময় দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে।’
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’ পদ্মা নদীর এই ভয়াবহ ভাঙন থেকে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।







