ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: সৈয়দা রিজওয়ানা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিক ও সচেষ্ট। তিনি জাতীয় পর্যায়ে বর্জ্যের পরিমাণ কমানো, বর্জ্য সংগ্রাহকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল মহানগরের সুদোকওয়ন ল্যান্ডফিল ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনের (এসএলসি) বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচ্য ছিল। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপনের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামের দুটি বিদ্যমান ডাম্পিং সাইট বন্ধ করা এবং পুনর্বাসন করে একটি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। তারা কোরিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুদান ও সহজ শর্তের ঋণের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। উক্ত দুই ডাম্পিং সাইট বন্ধের কাজ এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পরে এসব সাইটে ২০ বছরের পর্যবেক্ষণকাল থাকবে এবং ভূমির স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে প্রথম পাঁচ বছরের পর এগুলোকে জনসাধারণের জন্য পার্ক হিসেবে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিনিধিদল বর্জ্য সংগ্রাহকদের নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার গুরুত্বেও গুরুত্বারোপ করেছেন, যা তাদের কর্মপরিবেশ উন্নত করবে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াবে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার দল বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র এবং প্রকল্প সংক্রান্ত দলিলাদি প্রেরণের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বিশ্বের বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক সুদোকওয়ন ল্যান্ডফিল ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশে শেয়ার করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

এসএলসির প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যমান উন্মুক্ত ডাম্পিং সাইটগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের প্রকল্পের প্রস্তাবও কোরিয়ান প্রতিনিধি দল দিয়েছে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রেজাউল করিম, এবং কোরিয়ার এসএলসি পরিচালক সিওক ওউ জং সহ উভয় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।