ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পাবনার হিমায়েতপুর: পদ্মার তীরে আধ্যাত্মিকতা ও শান্তির মিলনস্থল

পাবনা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে, প্রমত্তা পদ্মার কোলে নীরব ও সবুজে আচ্ছন্ন হিমায়েতপুর। এখানকার স্নিগ্ধ পরিবেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রম—একটি স্থান যা আধ্যাত্মিকতা ও নান্দনিকতার মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত।

আশ্রমটি শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়; এর মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য ও তীব্র আধ্যাত্মিক পরিবেশ পর্যটক ও সাধকদেরও আকর্ষণ করে। যুগপুরুষোত্তম ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ছিলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক, দূরদর্শী দার্শনিক ও মানবধর্মের প্রচারক। তার স্মৃতিবিজড়িত এই আশ্রমে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে আধুনিক ও ধ্রুপদী স্থাপত্যের সুচিত্র সমন্বয়—একটি শান্ত, সাজানো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যা সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিশেষত সন্ধ্যার পরে এখানে আলোর খেলায় মন্দিরটি এক অন্যরকম রূপ ধারণ করে। গম্বুজ ও কারুকাজ করা দেয়ালগুলোর ওপর হালকা আলোর ছোঁয়ায় মন্দির যেন অতীন্দ্রিয় সৌন্দর্যের আভাস দেয়। দর্শনার্থীরা বলছেন, গোধূলি সময়ে আকাশের নীলিমার সঙ্গে মন্দিরের উজ্জ্বলতা মিলে এমন একটি আধ্যাত্মিক মূহূর্ত তৈরি হয় যা বোঝাতে ভাষা কম পড়ে।

প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে এখানেই আসেন। আশ্রমের প্রশস্ত প্রাঙ্গণ, সারি সারি গাছপালা এবং নীরবতা—সব মিলিয়ে মনকে প্রাণবন্ত ও বিশ্রামদায়ক করে তোলে। স্থানীয়রা ও দর্শনার্থীরা একযোগে মনে করেন, এই আশ্রম কেবল উপাসনালয় নয়; এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল পরিচায়ক।

আশ্রমটি শুধু আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকেও গতি দিচ্ছে। পর্যটক আগমন বাড়ায় আশপাশের হোটেল, বাজার ও সেবাখাতের চাহিদা বাড়ায়, ফলে এলাকার আয়ের উৎসও বিভক্ত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষের সমন্বয়ে আশ্রম ও তার আশপাশ সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে—এই ব্যবস্থাপনাই মানুষকে বারংবার এখানে টানে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে হিমায়েতপুরের এই সৎসঙ্গ আশ্রম পাবনার সাংস্কৃতিক গৌর্য বাড়িয়েছে। যদি আপনি দৈনন্দিন জীবনের বালুনোয় পড়ে কিছুটা বিরতি চান, নীরবতা, আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের সন্ধানে হিমায়েতপুরের এই আশ্রম নিশ্চয়ই আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে।