ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পুঁজিবাজারে স্বাভাবিকতা ফিরাতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের দাবি

দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োগ করা ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমার কারণে দেশের পুঁজিবাজারে সৃষ্ট স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বাজারের স্বাভাবিক ছন্দ ও লেনদেনের গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে অবিলম্বে এই কৃত্রিম মূল্যসীমা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সোমবার ডিবিএ বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত।

চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কার্যত লেনদেনহীন হয়ে পড়েছে; এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে ঝটপট বিক্রি-ক্রয় ছাড়াই রয়েছে। এছাড়া ডিবিএ জানিয়েছে যে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ কিছু শেয়ার ৩ মে ফ্লোর প্রাইসে থাকার কারণে বিক্রেতাদের স্বাভাবিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। সংগঠনের পরিমাপকথায়, এসব কৃত্রিম সীমাবদ্ধতা বাজারকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না।

ডিবিএ আরও সতর্ক করেছে যে ফ্লোর প্রাইসজনিত দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন সীমাবদ্ধতা মার্জিন ঋণ নিয়ে থাকা বিনিয়োগকারীদের ইক্যুইটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়াচ্ছে এবং তাদের ঝুঁকি তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্পর্কিতরা বলেছে, এসব পরিস্থিতি বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য ছাড়াও প্রবল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং বাজারের সক্ষমতা নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তাই বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে ফ্লোর প্রাইস দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য ডিবিএ বিএসইসির প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে।

ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে বাজারকে পুনরায় গতিশীল করা সম্ভব হবে। সংগঠনটি বলেছে, তৎপরতা না নিলে পুঁজিবাজারের পুনরুদ্ধার ধীরগতির মতো থেকে যাবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমবে।