ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পেনাল্টি থেকে গোল — বিশ্বকাপে নামার আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেন মেসি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে প্রস্তুতি জমিয়ে মাঠ ছাড়লো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আমেরিকার আলাবামায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লিওনেল স্কালোনির দল আত্মবিশ্বাসীভাবে জয় তুলে নেয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল, চমৎকার ড্রিবলিং এবং বলের উপর নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ছিল আলবিসেলেস্তের-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য; যদিও কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি, তবু মাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেই বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করল তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা কড়া চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে এবং তার ফল হিসেবে মাত্র ৮ম মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। তরুণ উদীয়মান প্রতিভা ভ্যালেন্টিন বারকোর একটি দর্শনীয় শটে প্রথম গোলের মুখ দেখায় আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধে আইসল্যান্ড রক্ষণে সংশয়ের কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি করলেও আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় আর্জেন্টিনা বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে যাচ্ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধেও রণ কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখে স্কালোনির দল। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে মাঠে নামা এক তরুণ বদলির পাসই ছিল মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত — তার সুন্দর ক্রস ধরে আইসল্যান্ডের ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে লাওতারো মার্টিনেজ, তাঁকে বাধাগ্রস্ত করলে রেফারি পেনাল্টি নির্দেশ করেন। দলে অধিনায়ক লিওনেল মেসি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে নিখুঁত ফিনিশিং করে স্কোর দুইগুণ করেন এবং দলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে তোলেন।

গত নাগাদ লাওতারো মার্টিনেজ নিজেই একটি গোল করে শেষ পর্যন্ত জয়কে নিশ্চিত করেন এবং ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর দাঁড়ায় ৩-০। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে নামার আগে দলের আত্মবিশ্বাস সাফসলভাবে বেড়েছে।

এই ম্যাচটি জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির করা সাম্প্রতিক শেষ গোলও ছিল। পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে তিনি একটি ব্যক্তিগত মাইলফলকের ইঙ্গিত দিয়েছেন — কাতার বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে তিনি ইতোমধ্যেই চারটি গোল করে ওই তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন; আগামী বিশ্বকাপে যদি মাত্র একটি পেনাল্টি গোল করেন, তাহলে তিনি এককভাবে সেই রেকর্ডের শীর্ষে উঠে যাবেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলের জন্য আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য এখন তাঁর প্রধান আকাঙ্ক্ষা।

আবহাওয়া, স্কালোনির কৌশল ও তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় দেখিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় আছে। সমর্থকরা আশা করছেন এই চমৎকার প্রস্তুতি মূল পর্বে ধরে রাখা যাবে এবং ভক্তদের জন্য আরও একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারবে দলটি।