ঢাকা | সোমবার | ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তির বা পরিবারের সম্পদ নয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, সশস্ত্র বাহিনী কেবলমাত্র দেশের সম্পদ, কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়। এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের নিরাপত্তা শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কাজ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন নৈতিকভাবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শনিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর এক দরবারে প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ দেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দেশের স্বার্থে দায়িত্ব পালনে আহ্বান জানান।

তারেক রহমান আরও বলেন, ইতিহাসের পর্যায়ে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ঘটনাগুলির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছিল, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য বিপজ্জনক। পরবর্তীতে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা এখনও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, চলমান সময়ে এবং প্রকাশিত বিভিন্ন পর্যায়ে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাহিনীর ভূমিকা আরো স্বচ্ছ ও পেশাদার হবে এটাই প্রত্যাশিত।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেই সময় থেকে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁর মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

এছাড়াও তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে বড় এক সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তারেক রহমান আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের সব খাতের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। নিজ দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে তিনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।