প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’-কে বিশ্বজুড়ে নিকৃষ্ট ও ভয়ংকর অপরাধের মধ্যে অন্যতম বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট) উপলক্ষে তিনি এই কথা বলেন এক বালিগাঁওতে দেওয়া বাণীতে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুত আদালতে মামলা পরিচালনা করছে। তিনি গুম হওয়া পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং এই অমানবিক প্রথাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিপন্ন করতে গুম ও অপহরণকে ব্যবহার করেছিল। তিনি ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানকার নৃশংসতা মানুষকে মাসের পর মাস অবরুদ্ধ করে রাখা হতো। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে জানা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপব্যবহার করে অন্তত ৭০০ জনকে গুম করা হয়েছিল। বাংলায় গুমের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির খোঁজ মিলতে না পারা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পুরো পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যুকেও নির্দেশ করে।
ভবিষ্যতের জন্য তিনি সরকারের অতিদ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই বিলগুলো আইনে রূপান্তরিত হলে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ রুদ্ধ হবে। আইসিসি রোম সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে পরিগণিত করেন এবং এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেন।
অতীতে “বীর ছাত্র-জনতা ২০২৪” অভ্যুত্থানের পর কিছু ব্যক্তি ফিরে এলেও, এখনও অনেকের খোঁজ নেই, যেমন ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলম। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানানো হয়। দিবসের এই বছরের প্রতিপাদ্য “ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ” এর গুরুত্ব তুলে ধরে, প্রধানমন্ত্রী এই নিষ্ঠুর অপরাধে জড়িত সকল ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে আহ্বান জানান। এই বাণী ও তথ্যগুলো তিনি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন।









