আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গৃহীত, যা গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষ্যে প্রণীত।
ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে জানানো হয়েছে যে, স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রাম থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, একদলীয় শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, দমন-পীড়ন ও বর্তমান ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এই দলিলে প্রতিফলিত হয়েছে।
এতে স্বাধীনতার সূচনা, বাকশাল শাসনের পতন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের একনায়কতান্ত্রিক শাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধ সরকার পতন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের কথা বলেছে ঘোষণাপত্র।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা। এ সবের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় জনগণ।
জুলাই ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করা হবে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে মূল ভিত্তি ধরে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এই ঘোষণাপত্র দেশের জনগণের দৃঢ় আশা ও সংগ্রামের ঐভব প্রকাশ করে।








