আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি সংক্ষিপ্ত দলিল, যা ওই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস থেকে শুরু করে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও অসঙ্গতিগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ ২৩ বছর পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করে। পরবর্তীতে স্বাধীনতার মূল্যবোধের বিপরীতে একদলীয় শাসন, গণতন্ত্রের অবনতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষতি ও মানবাধিকার হরণের মতো নানাবিধ চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।
ঘোষণাপত্রে পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে, যারা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে এবং বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। এতে গত ষোল বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অংশ নিয়েছে এবং নির্যাতন সত্ত্বেও গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী সরকার পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংকট মিটেছে এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
নিজস্ব শক্তিতে গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার কারণে জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচন, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। তারা আশা করে যে, আগামী নির্বাচনে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করা হবে।
সবশেষে, জনগণ প্রত্যাশা করে যে এই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং নির্বাচিত সরকার সংবিধানে এই ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হবে। এর মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
এই ঘোষণাপত্রের প্রণয়নই ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিজয় ও জনগণের সরল আকাঙ্ক্ষার স্বীকৃতি হিসাবেও বিবেচিত হচ্ছে।








