ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে দুটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের সাম্প্রতিক আলোচনায় প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। প্রথমত, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব এবং দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্যে থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের এগারোতম দিনের আলোচনার পর সাংবাদিকদের দেওয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সংবিধানে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতার বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। প্রধান বিচারপতি হিসেবে কর্মরত জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে না নিয়ে দুইজনের মধ্যে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিষয়ক আলোচনায়ও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত আলোচনায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) সংশোধনের মাধ্যমে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা দূরীকরণের লক্ষ্যে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবিধানের অপসারণ এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা।

আলোচনাকারীরা মনে করেন এই সংশোধনগুলো আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং আগামী সপ্তাহের আলোচনায় তা চূড়ান্ত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দল একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে যা দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে স্বীকৃত হবে। এ বিষয়েও আরও আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

আজকের আলোচনা সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ অন্যান্য ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।