১ জুলাই থেকে আগামী পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাবলিক স্কুলগুলোর শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণের জন্য অপরিহার্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম-৭ এর সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী জিজ্ঞেস করেন, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ইংরেজি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কি গ্রহণ করা হবে? আর যদি হয়, তবে কবে থেকে তা বাস্তবায়িত হবে?
এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষাদানে দক্ষতা ও মান উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার চারশত ঊননব্বই শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১ লক্ষ ত্রিশ হাজার শিক্ষকের ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় এসেছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন করে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হবে। এর মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি প্রশিক্ষণে পর্যায়ক্রমে তেরো লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বরগুনা-২ এর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা যেখানে ভৌগলিক গুরুত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বিশাল জনসংখ্যার অর্থনৈতিক মুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন করতে সরকার কি আলাদা ‘উপকূল বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের পরিকল্পনা করেছে কি না?
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এই বিষয়ে জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ ও সুনীল অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিএনপি নেতাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়সমূহের উল্লেখ রয়েছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫’ প্রণয়ন করেন, যা উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকার সমুদ্র অঞ্চলের পরিকল্পনা (MSP) চালু করে সমুদ্র সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছে। সম্ভাব্য উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই উপকূলীয় এলাকায় প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।









