ঢাকা | শনিবার | ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ফুটবল দেশের মাঠে ক্রিকেটের বিপ্লব: নেপালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতালির প্রথম জয়

ইতালির ক্রীড়াজগতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ স্মরণীয় হয়ে থাকবে—একদিন যেটা দলটির ইতিহাসে বড় এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে লেখা থাকবে। মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ইতালি জিতে নিয়েছে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ, আর সেই জয়ের আনন্দে খেলোয়াড়-সমর্থকরা উল্লাসে ভাসলেন। মাঠে দুই ভাই—জাস্টিন ও অ্যান্থনি মস্কা—কোর্টে ঘুরে দর্শকদের অভিবাদন নেন এবং ইতালীয় ক্রিকেটকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিলেন।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করে নেপাল নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৩ রানে অলআউট হয়। শুরু থেকেই ইতালির বোলাররা চাপ সৃষ্টি করে রাখেন, বিশেষ করে লেগস্পিনার কৃশান কালুগামাগে যে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেন। এই কড়া বোলিংই নেপালের ইনিংসকে বাধ্য করে কম স্কোরেই সীমাবদ্ধ থাকতে।

টার্গেট ১২৪ রানের সেই সহজ গন্তব্য পেতে নামা ইতালির ওপেনাররা শুরু থেকেই আক্রমণে থাকা শুরু করেন। জাস্টিন মস্কা ৪৪ বল খেলে ৬০ রান করেন, আর তার ভাই অ্যান্থনি ৩২ বলে ৩ চার ও ৬ ছয়ে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র ১২.৪ ওভারে জয় নিশ্চিত করে ইতালি—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিনা উইকেটে জয়ের এটি মাত্র অষ্টম ঘটনা, যা নবাগত দলের জন্য বিরল কৃতিত্ব।

এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখলেন কৃশান কালুগামাগে; ম্যাচে তার স্পিন ও কৌশল নেপালের ব্যাটিং ব্যাকবোন ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইতালির অধিনায়ক হ্যারি ম্যানেন্তি বলেন, দলের ১৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ১২ জনই ক্রিকেটের বাইরেও অন্য পেশায় যুক্ত—অনেকেই দিনভর কাজ করে, পরে প্রশিক্ষণ করে এবং নিজ জমানো অর্থে সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন। কৃশান নিজের পেশাকে বলছেন পিৎজা কারিগর—এমন পেশার মানুষের হাতে থেকে আসা এই জয় তাই কেবল ক্রীড়াজয়ের চেয়ে অনেক বড় অর্থ বহন করে; এটি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও স্বপ্নের প্রতীক।

ইতালির এই কৃতিত্ব দেশটির ফুটবল ইতিহাসের গত কয়েক দশকের সঙ্কটও সামনে নিয়ে এসেছে। চারবারের বিশ্বকাপ বিজয়ী দেশটি ২০০৬ সালের বার্লিন শিরোপার পর থেকে বড় কোনো ধারাবাহিক সফলতা পাচ্ছে না—২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা মাত্র একটি ম্যাচে জয় পায়, এবং ২০১৮ ও ২০২২ সালে মূল পর্বেই স্থান পায়নি। আয়তনে ছোট হলেও গতকালের জয় এক অর্থে পরিসংখ্যানগত মিল ঘটিয়েছে—ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় বিশ্বমঞ্চেই ইতালির জয়ের সংখ্যা এখন একই বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে।

আগামী ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইতালির অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত; আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ পার হতে ব্যর্থ হলে তারা টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ হাতছাড়া করতে পারে। এমন নিশন্দেহ সময়েই ক্রিকেটারদের এই অভাবনীয় জয় ইতালিয়ান ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ জোগাচ্ছে। অধিনায়ক ম্যানেন্তি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই জয়ের পর ইতালিতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে এবং পিৎজা কারিগরদের মতো অপেশাদার খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করবে। আজকের সেই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়—এটি সম্ভাবনার এক নতুন সূচনা।