ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ফুলবাড়িয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এখন পানের হাট

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পোস্ট অফিস রোডে, সরকারি বড়পুকুর পাড়ের নিকটে অবস্থিত ছিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ওই কার্যালয়টি একসময় প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে, বর্তমানে সেই কার্যালয়ে বসেছে পানের হাট।

এর আগে ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি সাংগঠনিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্ব পেত। সেখানে নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মত। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে কার্যালয়টি ভাঙচুরের শিকার হয় এবং স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এরপর থেকে কার্যালয়টি কালের আবর্তে ছেড়ে দেয়া হয়।

বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের জায়গায় বসানো হয়েছে পানের হাট। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পান চাষিরা এখানে তাদের পানের পট্টি নিয়ে এসে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পাইকার ও আড়তদাররাও উপস্থিত থেকে ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে পরস্পরের সাথে দরদাম করছেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া হাটে প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে ভালো পরিমাণে পান বিক্রি হয়ে যায়। বিক্রয় শেষে কৃষকরা আড়তদারদের কাছে শতকরা ১০ টাকা হারে কমিশন দেন।

পাটুলি এলাকার কাদের মিয়া জানান, ‘‘আগে এটি আওয়ামী লীগের অফিস ছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর এখানকার অফিস কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। তাই এখানে পানের হাট বসানো হয়েছে। সবাই এখানে পান নিয়ে আসে, আমরাও এখানেই পান বিক্রি করি।’’

আলমগির এবং সুজাৎ নামের স্থানীয়রা বলেন, ‘‘এ হাটে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক পান চাষি ও পাইকাররা আসেন এবং পানের বেশ ভালো বেচাকেনা হয়।’’ এছাড়া জানা গেছে, এই হাটে পানের বিক্রয় কার্যক্রম আড়তদারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাদের নেতৃত্ব দেন আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

ফুলবাড়িয়ার এই পরিবর্তনটি স্থানীয়দের জীবনে নতুন রুপ এনেছে এবং অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পানের ব্যবসায় নতুন গতিশীলতা যোগ করেছে।