বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হচ্ছেন ফ্রান্স — আর এই উন্মুক্ত ম্যাচটি পরিচালনা করবেন পাঁচজনই আর্জেন্টিনার রেফারি। বৃহস্পতিবার মাঠে নামার আগেই একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ফিফা ম্যাচ অফিসার নিযুক্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক ফরাসি সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং কটাক্ষ করে বলেছেন, এত হলে লিওনেল মেসিকেই এই ম্যাচের রেফারি বানিয়ে দেওয়া হোক।
একাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী একই দলের দুটি প্রধান ফিল্ড রেফারি ও দুই লাইন্সম্যান একই দেশের হতে পারে, কিন্তু সাধারণত চতুর্থ রেফারি, রিজার্ভ রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ভিন্ন কোনো দেশের নাগরিকদের মধ্য থেকে বোঝা হয়। তবে চলতি টুর্নামেন্টে খেলা সংখ্যা ৯৬ পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো মাঠ ও মাঠের বাইরের পাঁচজনও একই দেশের, অর্থাৎ আর্জেন্টিনার অন-ডিউটি রয়েছেন—এটাই নজিরবিহীন ও বিতর্কের মূল कारण।
ইতিমধ্যে ফরাসি মিডিয়া ও সমর্থকদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এক শীর্ষস্থানীয় ফরাসি সংবাদপত্র লিখেছে যে ফিফার কাছে বিবেচনার মাত্রা নেই, আর অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে স্বার্থনিরপেক্ষতা বজায় থাকবে কিনা। একজন ফরাসি ফুটবল ভক্ত সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়ভাবে লেখেন, মেসিকেই এই ম্যাচের রেফারি করে দেওয়া উচিত, যা সমালোচনামূলক রসবোধ প্রকাশ করছে।
তিলো নামের আর্জেন্টাইন প্রধান রেফারি ফাকুন্দো তেলো এই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তার সহকারী হিসেবে থাকছেন জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চেদ। চতুর্থ রেফারি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ রেফারি হিসেবে থাকছেন ক্রিশ্চিয়ান নাভারো।
ফাকুন্দো তেলোকে দুরকম কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিচিতি আছে; ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো বনাম পর্তুগাল ম্যাচে মরকোর খেলোয়াড় ওয়ালিদ চেদিরাকে লাল কার্ড দেখানোর পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে স্থানীয় লিগে তার কঠোর বিচার নিয়ে পরিচিতি রয়েছে, যেখানে একটি খেলায় তিনি একাধারে বেশ কয়েকটি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবু এই প্রথমবার ফরাসি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার সামনে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দিতে হয়, বিগত দুইটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল; ২০১৮ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ১৬-তে ফ্রান্স আর্জেন্টিনাকে বিদায় দিয়েছিল, আর ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। এই ইতিহাসের কারণে কিছু ফরাসি কণ্ঠ এই ভয় প্রকাশ করছে যে আর্জেন্টিনার রেফারিরা তাদের দলের বিরুদ্ধে অনুকূল নয় এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কাকতালীয়ভাবে এবারের টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ম্যাচটি পরিচালনা করা রেফারি ছিলেন ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ার, যাকে নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি আর্জেন্টিনার পক্ষে সুবিধা করেছেন। এসব প্রেক্ষাপট মিলিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
ফাইনাল সিদ্ধান্ত এখন ফিফার কাছে, রেফারিদের কাজ মাঠেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রীতিকর মানসিকতা দেখালেও পর্যবেক্ষকরা বলছেন ব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে। পরীক্ষার দিন মাঠে রিপোর্টই সবশেষ কথা বলবে।








