ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বরিশালে আদালতবর্জন ও হট্টগোল: বিএনপি-পন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার মামলা

বরিশালে আদালতবর্জন, এজলাসে হস্তক্ষেপ ও বিচারকের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ ২০ জন বিএনপি-পন্থি আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন।

মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, বাদী হিসেবে বেঞ্চ সহকারী একটি মামলা করেছেন; মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে নামধারী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন — বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওইদিন ওই পক্ষের আইনজীবীরা বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তারা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবেশ করেন এবং সেখানে শুনানিকৃত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

আদালতে ঢুকে অভিযোগ, তারা বিচারককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন এবং জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন উপস্থিত আইনজীবীদের তাৎক্ষণিকভাবে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং তিনি এক আইনজীবীকে জোরপূর্বক এজলাস থেকে বের করে দেন। অন্য এক অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বিচারককে এজলাস থেকে নামার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

কয়েকজন আইনজীবীর উত্তেজিত আচরণে আদালতের ভেতরে বেঞ্চ, মাইক্রোফোন ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়। মামলায় আরও বলা হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কজলিস্ট ও মামলা দায়েরের রেজিস্টার খাতা ছিঁড়ে ফেলে বিচারকাজে চরম বিঘ্ন ঘটানো হয়।

স্থানীয় পুলিশ ও বাদীর অভিযুক্ত করা আচরণের ভিত্তিতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।