বিশ্বব্যাপী চাহিদার বৃদ্ধি আর আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্ধমান সুযোগের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে বলে জানালেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
সোমবার (৭ জুলাই) ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘মর্ডান ফুড সেফটি সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই তথ্য জানান। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান সভাপতিত্ব করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ। এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহাইড উপস্থিত ছিলেন।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথ ধরেছে এবং নিরাপদ খাদ্য আমাদের জনকল্যাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।’
তিনি আরও জানান, ‘যদিও কিছু ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে, তবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এখনও ব্যাপক কাজ বাকি। আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।’
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ‘নিরাপদ খাদ্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আন্তর্জাতিক খাদ্য বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং খাদ্য ও কৃষি খাতে রপ্তানি আয় গুণগতভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি বলেন, ‘আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ মানব সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত পরীক্ষাগারের প্রয়োজন। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাপান সরকারের সহযোগিতায় একটি ঋণ চুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় আধুনিক নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জাতীয় রেফারেন্স পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করবে।’
এছাড়াও একটি কার্যালয় ভবন এবং খাদ্য ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম ও খুলনায় বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার ও কার্যালয় নির্মাণের মাধ্যমে সারাদেশে খাদ্য পরীক্ষণ ও বিচারিক কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের দৃঢ় অংশীদারিত্ব রয়েছে। জাপান জ্বালানি, বন্দর, সড়ক, মেট্রো, সেতু ও কৃষি খাতে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। নিরাপদ খাদ্য খাত নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে আমাদের সম্পর্ক আরও গাঢ় করেছে, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।’
রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও পরীক্ষাগারে পেশাদার জনবল নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে পরীক্ষাগারগুলো কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও কার্যকারিতা অর্জন করে এবং আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা স্থাপন সম্ভব হয়।
সভাপতির বক্তব্যে খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি সমাধান পর্যাপ্ত নয়; আমাদের প্রয়োজন একটি সম্পূর্ণ আধুনিক এবং সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা।’
বিএফএসএ চেয়ারম্যান জাকারিয়া সেমিনারে স্বাগত ভাষণে জাইকার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের নিরলস সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
সেমিনারে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংস্থা, দাতা সংস্থা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, খাদ্য শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সংবাদ মাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন থেকে বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্যের উৎপাদন ও রপ্তানির গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।








