ঢাকা | শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যেকার পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক হয়, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পক্ষান্তরে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।

বৈঠকে দুদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে, মাদক চোরাচালান রোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার পর গত জানুয়ারিতে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চালু হওয়া দুদেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে—এটা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ‘কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি)’ প্রাপ্তির জটিলতা তুলে ধরে বলেন, এর ফলে অনেক পরিচয়প্রদানকারী মৌলিক অধিকার—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা—অথচ পাচ্ছেন না। তিনি পাকিস্তানজুড়ে এই সমস্যা দ্রুত সমাধানে সহযোগিতা কামনা করেন।

নগর নিরাপত্তার আধুনিকায়নে পাকিস্তান বিভিন্ন শহরে চালানো ‘সেফ সিটি’ মডেলের সফলতা প্রশংসা করে বাংলাদেশের শহরগুলোতেও এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ পুলিশকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ অনড়, মিয়ানমার যেন দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সে বিষয়ে পাকিস্তানের শক্তিশালী সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

বৈঠক শেষে, পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর উত্তরে, সালাহউদ্দিন আহমদ তার সুবিধাজনক সময়ে সফরে যাওয়ার রাজি ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।