ঢাকা | শনিবার | ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাজারে সবজির দাম সবকিছুকেও ছাড়িয়ে গেছে ৮০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি

গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু সবজির মৌসুমের শেষ হওয়ার কারণে দেশের বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এসব কারণের ফলস্বরূপ, সব ধরনের সবজির দাম যথেষ্ট বাড়তি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাজারে প্রায় সকল সবজির বাজারমূল্য ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম অপ্রত্যাশিতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। সবচেয়ে বেশি দাম থাকছে কাঁকরোল, শসা ও বেগুনের ওপর, যেখানে তাদের কেজি যথাক্রমে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাধারণত বাজারে পটল বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকায়, কাঁকরোল ১২0 টাকা, গোল বেগুন ১২0 টাকা, লম্বা বেগুন ১০0 টাকা। দেশীয় শসা ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা ১০0 টাকা, করলা ৮0 টাকা, ঝিঙা ১০0 টাকা, চিচিঙ্গা ১০0 টাকা, ধুন্দল ১০0 টাকা, ঢেঁড়স ৬0 টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, জালি ৬0 টাকা, লাউ ৭0 টাকা, কাঁচামরিচ ১৬0 টাকা, পেঁপে ৮0 টাকা এবং কাঁচা কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে, মাংস, ডিম এবং মাছের বাজারে এখনও মহামূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে গরুর মাংস, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠছে। পূর্ব রামপুরার বউবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৭0 টাকা, ব্রয়লার মুরগির মূল্য ১৮0 টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজারেও দাম অনেক বেশি। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩0 টাকা, বাদামী রঙের ছোট ও মাঝারি ডিমের ডজন ১৪0 টাকা, বড় বাদামী ডিমের ডজন ১৫0 টাকা, আর হাঁসের ডিমের দাম রয়েছে এক টাকায় ২১০ টাকা।

মাছের বাজারে দেখা গেছে, কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩60 টাকা, রুই ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮0 টাকা, কই মাছ ২২০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা ও পাবদা ৩০0 টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা আতাউর রহমান বলেন, “ডিমের দাম দেখে আমি অবাক হয়েছি, ডজনের দাম ১৫0 টাকায় পৌঁছেছে। এই দাম অনেক বেশি। আর মাছের দামে তো কোনো কমতি নেই, সবকিছুতেই দাম বাড়ছে।” অন্যদিকে, রামপুরা বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান বলেন, “সব ধরনের সবজির দাম জোরেশোরে বেড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এখন এই দামে সবজি নেওয়া খুবই কঠিন। এতো দাম থাকলে আমরা ঠিকভাবে সবজি কিনে খেতে পারছি না।”

বাজারে সবজির এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চাঁদ মিয়া বলছেন, “কয়েক দিন ধরে সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হলো পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া, পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। সবজির এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”