ইরান–সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকট থাকলেও ২০২৭ সাল নাগাদ পুনরায় উৎপাদন বাড়ার জোরালো পূর্বাভাস দিয়েছেন ফিচ সলিউশনসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএমআইয়ের বিশ্লেষকরা। বিদেশি সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেসলাইনেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই আশাবাদ তুলে ধরা হয়েছে।
বিএমআই বলছে, এই ইতিবাচক চিত্রের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করবে। প্রথমত, ২০২৬ সালে সৃষ্ট বিশাল সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা। চলমান সংঘাতের ফলে বর্তমানে বাজারে প্রায় ৬০ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং যদি যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চলে, তা হলে ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেলেরও ওপর চলে যেতে পারে। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই ২০২৭ সালে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ আরও তীব্র হবে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে আবারও বড় আকারে স্টক গুড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য দেশগুলো যে পরিমাণ তেল পুনরায় মজুদ করবে, তা উৎপাদন বাড়ানোর প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন ওপেক প্লাস তাদের পূর্বের উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে, ফলে দিনে লাখ লাখ ব্যারেল নতুন তেল বাজারে যুক্ত হবে এবং এর সুফল ২০২৭ সালে স্পষ্ট হবে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপেক থেকে প্রস্থানের সিদ্ধান্ত। বিএমআই লেখে, ওপেকের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে মঙ্গলবার দেশটি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করতে পারবে, যা বিশ্ববাজারে জোগান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজির গবেষণা শাখা আইএনজি থিংকের হিসাব মতে, বর্তমান উত্তেজনার কারণে বাজারে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে এপিআইয়ের তথ্যে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত ৮১ লাখ ব্যারেল কমে যাওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিএমআই সতর্ক করেছেন, যদি যুদ্ধ গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয় তবে বৈশ্বিক মজুদ বিপৎসীমার নিচে নামার ঝুঁকি রয়েছে। তা সত্ত্বেও সংস্থাটি ধারণা করছে ২০২৭ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আনুমানিক ৭২ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক থাকলেও যদি তাদের রপ্তানি বজায় থাকে তাহলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরব এশীয় ক্রেতাদের কাছে নিজস্ব মূল্য ধীরগতিতে কমিয়ে একটি নতুন বাণিজ্যগত সমীকরণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারকথা, স্বল্পমেয়াদে চাপ থাকলেও বিশ্বজুড়ে মজুত পুনর্গঠন এবং উৎপাদন কৌশলের পরিবর্তনের ফলে বিএমআই বিশ্বাস করে ২০২৭ সালে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—তবে সেই পথে রাজনৈতিক উদ্বেগ ও সরবরাহঝুঁকি বজায় থাকবে।








