জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আজ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে দ্বিতীয় দফার নবম দিনের মতো আলোচনায় বসেছে, যেখানে তারা রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একমত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো জুলাই মাসে একটি সমন্বিত ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আলোচনাগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ সভার সভাপতিত্ব করছেন। এছাড়া কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন।
আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রতি-পক্ষের ৩০টির মতো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, আজকের আলোচনায় পুরনো অমীমাংসিত বিষয়গুলোর আলোচনার পাশাপাশি বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা—এই তিনটি বিশেষ বিষয়কে গুরুত্বসহকারে আলোচনার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আলোচনার শুরুতে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের স্মৃতিতে রাখতে হবে যে আমরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে কত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এবং মানুষের অসংখ্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে এসেছি। হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগই আমাদের পথ প্রদর্শক হওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, “৫৩ বছরের রাষ্ট্র গঠন জীবনে এরকম সুযোগ খুব কম আসে। এত অন্যায় ও অত্যাচারের মধ্য দিয়ে যে সুযোগটি এসেছে, সেটি আমরা হালকাভাবে বা ননশ্চিন্তায় হারিয়ে ফেলতে পারি না।”
এর আগের দিন, বুধবার, কমিশনের অষ্টম বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন যে, আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরণের আলোচনা অব্যাহত থাকলে এই মাসের মধ্যভাগ বা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এসব উদ্যোগ দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে একটি ঐক্যমত্য গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বরপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।








