ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিস্ময়কর বিজয়! ২৩২ বছরের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিল পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট

ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লেখা হলো করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ টুর্নামেন্টে। এই ম্যাচে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট দল পাকিস্তান টিভি (পিটিভি) এক অবিশ্বাস্য জয় ছুঁয়ে দেখিয়েছে, যা ভাঙে দীর্ঘ ২৩২ বছর ধরে থাকা বিশ্ব রেকর্ডের ইতিহাস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে কম রান নিয়ে প্রতিপক্ষকে হারানোর এই অনন্য কীর্তি এখন পিটিভিরই নামের সাথে জড়িয়ে গেছে।

প্রতিপক্ষ সুই নর্দান গ্যাস পাইপলাইনস (এসএনজিপিএল)কে মাত্র ৪০ রানের লক্ষ্য দেয় পিটিভি, কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গিয়ে তারা মাত্র ৩৭ রানেই অলআউট হয়ে যায়। করাচির এই ম্যাচে পিটিভির জয়টি এসেছে মারাত্মক ২ রানে। আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত কম রান দিয়ে জয়রেকর্ডের রেকর্ডটি ছিল ১৭৯৪ সালের, যখন লর্ডসের ওল্ডফিল্ড বনাম মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ম্যাচে ওল্ডফিল্ড ৪১ রানের লক্ষ্য দিয়ে এমসিসিকে ৩৪ রানে অলআউট করে জয় লাভ করে। সেই সময় থেকে এই রেকর্ড অক্ষত ছিল। কিন্তু শনিবার, পাকিস্তানের ঘরোয়া লিগে এই ইতিহাসের জমিনে একটি নতুন ইতিহাস রচিত হলো। পিটিভি ৪০ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ডের শীর্ষে উঠে এসেছে সহসা এবং ওল্ডফিল্ডের রেকর্ডকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে।

ম্যাচের তৃতীয় দিনে পিটিভি তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ৫ উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে। তাদের লিড ছিল ২৭ রান। কিন্তু দিন শুরুতেই তারা মাত্র ১২ রান যোগ করতে পারে এবং বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানে অলআউট হয়। ফলে এসএনজিপিএলের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রান। আগে প্রথম ইনিংসে পিটিভি করে ১৬৬ রান, আর এসএনজিপিএল সংগ্রহ করে ২৩৮ রান। তৃতীয় দিনে বোলার শেহজাদ গুল ৫ উইকেট ও সাজিদ খান ৩ উইকেট নিয়ে পিটিভিকে বেঁধে রাখেন।

৪০ রানের এই ক্ষুদ্র লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এসএনজিপিএল বলিরহানের মুখোমুখি হয়। পিটিভির বোলাররা তাদের দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ১৯.৪ ওভারেই ৩৭ রানে গুটিয়ে দেয় প্রতিপক্ষকে। বিবৃতিতে দেখা যায়, এই জয় আসতে মূল অবদান এসেছে এমাদ বাট ও আলী উসমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য। এমাদ ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন, আর আলী উসমান ৯.৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেওয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান।

এসএনজিপিএল ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান তুললেও তখনই তাদের আশা ভেঙে পড়ে। ব্যাটসম্যান সাইফুল্লাহ বাঙ্গাস ৩৫ বলের মধ্যে ১৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত দলের হারের পথ থেকে রক্ষা পাননি। এই বিজয় ক্রিকেটবিশ্বের জন্য এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয়, যেখানে মাত্র ৪০ রানে অলআউট হওয়া দলটি ক্রিকেটের অমর গল্পে স্থান করে নিল। এই ম্যাচের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ হলো— দীর্ঘ ২৩২ বছর ধরে রাখা রেকর্ডের জগতে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হলো, যা প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর মনে দাগ কেটেছে চিরকাল।