ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভারত থেকে পোশাক কেনার অর্ডার সাময়িক স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল কয়েকটি কোম্পানি, যেমন ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, টার্গেট ও গ্যাপ, ভারতের তৈরি পোশাক কেনার অর্ডার স্থগিত করতে শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে পোশাক কারখানাগুলো ভারতে না রেখে অন্য দেশে স্থানান্তরের কথা ভাবছে, যা ভারতের তৈরি পোশাক খাতকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি করেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশে নিয়ে গেছে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতীয় রপ্তানিকারকদের কাছে ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ করছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এই উচ্চ শুল্কের চাপে ভারতে উৎপাদিত পোশাকের ক্রয়ে সংকোচ করছেন এবং রপ্তানিকারকদের এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে আগ্রহী নন। উচ্চ শুল্কের ফলে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে, যা ক্রয়াদেশে ৪০-৫০ শতাংশ হ্রাসের কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করছে।

ভারতের ওয়েলস্পান লিভিং, গোকলদাস এক্সপোর্টস, ইন্দো কাউন্ট ও ট্রাইডেন্টের মতো বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট রপ্তানির ৪০-৭০ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। ভারত বর্তমানে মার্কিন বাজারের চতুর্থ বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। গত বছর দেশে তৈরি পোশাকের মাধ্যমে ৪৬৯ কোটি ডলার রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুইটি হলো বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম, যাদের ওপর মার্কিন প্রশাসন ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে এই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মার্কিন বাজারে অনেক ক্রয়াদেশ ভারত থেকে এই দুই দেশে স্থানান্তরিত হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যেটির প্রথম ২৫ শতাংশ কর্মক্ষম হয়েছে গত বৃহস্পতিবার থেকে, এবং বাকি ২৫ শতাংশ ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

ভারতের বস্ত্র খাতের শীর্ষ সংগঠন দ্য কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটিআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, এই উচ্চ শুল্ক ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এটি খাতের জন্য বিশাল ধাক্কা। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কঠিন এই সময়ে খাতটিকে দ্রুত সহায়তা করার জন্য।

শুধু বস্ত্র নয়, ভারতের চামড়া, রাসায়নিক, জুতা, রত্ন, গয়না ও চিংড়ি রপ্তানিতেও এই অতিরিক্ত শুল্ক বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন দেশের শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই শুল্ক বিরোধ মিটানো না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাণিজ্য আলোচনা হবে না। তিনি ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমকে জানান, এই বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা চালানো হবে না।

মার্কিন হোয়াইট হাউস গত বুধবার এক নির্বাহী আদেশ জারি করে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা রুশ তেল আমদানির কারণে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির খাতিরে নিয়েছে। এই আদেশের ফলে মোট শুল্ক হার ৫০ শতাংশে উঠে গেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বৃহস্পতিবার দিল্লির এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেন, অর্থনৈতিক চাপে ভারত পিছু হটবে না। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো কৃষক, জেলে ও দুগ্ধশিল্পের স্বার্থ। আমরা কখনো তাদের স্বার্থ নিয়ে আপস করব না।’’

এই বাণিজ্য উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে যেখানে উভয় পক্ষই তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং নীতিতে অটল রয়েছে।