ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ

ইউরোপে নতুন জীবনের আশা নিয়ে সমুদ্রপাড়ি দিতে গিয়ে আবারও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে ভূমধ্যসাগরে। লিবিয়ার তাজাউর উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি কাঠের যাত্রীবাহী নৌকা শনিবার বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ (এসএআর) জোনে ডুবে যায়, যার ফলশ্রুতিতে কমপক্ষে ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন—এই তথ্য শনিবারের দুর্ঘটনার পর ইটালীয় উদ্ধারকারী এনজিও ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’ (এমএসএইচ) রবিবার নিশ্চিত করে।

উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, নৌকাটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং প্রায় ১২২ কিলোমিটার দূরে, বৌরি অয়েল ফিল্ডের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইলের অবস্থানে মাঝসমুদ্রে ডুবে যায়। নৌকাটিতে নারী ও শিশুসহ অনেক মানুষ ছিল। এমএসএইচ বলেছে নৌকাটিতে মোট ১০৫ জন ছিলেন, তবে ল্যাম্পেদুসাভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনসা উদ্ধারকারী সূত্রের হিসেবে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ১৮০ জনও হতে পারে—এই দুই সংখ্যার মধ্যে বড় ফারাক থাকায় নিহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত সমুদ্র থেকে ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবন রক্ষা করা ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ইতালির দক্ষিণে ছোট দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি বলেন, কোস্টগার্ডের টহল নৌকা পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি সমুদ্রের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারসাম্যহীন হয়ে দ্রুত ডুবে যায়, ফলে মুহূর্তের মধ্যে অনেকেই জলে তলিয়ে যান।

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে শোক ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান নিখোঁজ ও নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর বর্তমান অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থার বক্তব্য—নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথে বাধা থাকায় মানুষ জীবন ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে। তারা বিশ্বনেতাদের কাছে মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসন কাঠামো গড়ার তৎপর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমধ্যসাগরে নিয়মিত ঘটে যাওয়া এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী উদ্ধার ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ইতিমধ্যেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত আছে এবং প্রত্যাশিত যে আগামি ঘণ্টা-দিনে হতাহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা আসবে।