ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই নিরাপত্তাজনিত কারণে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যেতে হয়েছে ৪০,০০০-এর বেশি মার্কিন নাগরিক। স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এতসংখ্যক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সহকারী সচিব ডিলান জনসন জানিয়েছেন, গত সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৬ হাজার এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে এটি ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখন পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট সীমিত থাকায় বিশেষ বাস ও চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া প্রায় ২৭,০০০ আমেরিকানকে সরাসরি নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং যাতায়াত-সংক্রান্ত সহায়তা দেয়া হয়েছে। জনসন জানিয়েছেন, অঞ্চলভিত্তিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছেনা, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ আছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে যে সামরিক অভিযান শুরু করে তাকে তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নাম দেয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের একাংশের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঐ হামলায় এখন পর্যন্ত লক্ষণীয় সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে; بعض প্রতিবেদনগুলোতে নিহতের সংখ্যা ১,২০০-এর ওপরে উল্লেখ করা হলেও এসব দাবি বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
ইরানও পাল্টা হানায় নীরব থাকেনি। ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৮ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলান জনসন জোর দিয়ে বলেন, ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে ইচ্ছুক প্রতিটি মার্কিন নাগরিককে সক্রিয়ভাবে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।’ তিনি আরও জানান, নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার অভিযান আগামী কয়েক দিনও চলতে পারে।
অর্থাৎ, পরিস্থিতি এখনও গতিশীল এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে সচল রয়েছে, অন্যদিকে প্রত্যন্ত স্থানে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সতর্কতা জারি রাখা হচ্ছে।








