মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্যাংকিং খাতে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্ন করোনোর ফলে বড় করপোরেট ও শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে, যা ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে তাদের ঋণ পোর্টফোলিও নজরদারিতে কঠোরতর হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে করপোরেট গ্রাহকদের মধ্যে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা ব্যাংক কর্মকর্তাদের। ঝুঁকি হ্রাস করতে অনেক ব্যাংকই আগাম ‘প্রভিশন’ বা আপৎকালীন সঞ্চয় বৃদ্ধি করছে। উদাহরণ হিসেবে ওসিবিসি (OCBC) তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে জানায় যে তারা ২ হাজার ১৬০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের একটি বড় আপৎকালীন তহবিল গঠন করেছে।
ওসিবিসির প্রধান নির্বাহী তান তেক লং বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের খেলাপি দেখা না গেলেও সতর্কতামূলকভাবে আমরা অতিরিক্ত সঞ্চয় রেখেছি।” একইভাবে ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংক (UOB) পরিবহন, কৃষি ও বিদ্যুৎসহ জ্বালানি-নির্ভর শিল্পগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী উই ই চিয়ং সতর্ক করেছেন যে বড় করপোরেট ছাড়াও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সংঘাতের প্রভাবে বড় ধাক্কা খেতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ব্যাঙ্ক মান্দিরি বলেছে, যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠে যায়, তাদের খেলাপি ঋণের হার ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস মনে করায়, আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বড় হুমকি। ব্যাংকক ব্যাংকসহ কয়েকটি থাই ব্যাংক বর্তমানে অতিরিক্ত নগদ ধারণ করছে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি সামলানো যায়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করপোরেট ঋণের ক্ষেত্রে যে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে তা কেবল শুরু—এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ব্যাংকগুলোর রিস্ক-অভিধান কড়াকড় হওয়ায় নতুন ঋণ পেতে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধা বাড়বে, যা সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি মন্থর করতে পারে। ফলে অনেক ব্যাংক আপাতত নিরাপদ খাতেই তাদের বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে।
অবস্থা উন্নত না হলে ও বাজার স্থিতিশীলতা ফিরে না না পাওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটির ব্যাংকগুলো উচ্চ সতর্কতা ও সংরক্ষণমূলক নীতি চালু রাখতে বাধ্য থাকবে।









