ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মাদকাসক্তদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার

মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্যও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ১,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। সেই সঙ্গে মাদকাসক্তদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও অধিক কার্যকর করবে।

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য ২০২৪ সালের অস্ত্র ব্যবহার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং প্রথম ব্যাচের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আভিযানিক ঝুঁকি কমছে এবং মাদকবিরোধী অভিযানগুলো আরও সফল হবে।’’

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রেখে দেশের উন্নয়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘কর্মক্ষম যুবশক্তিই দেশের উন্নতির প্রধান চাবিকাঠি। অতীতে যখনই বৈষম্য, বঞ্চনা, অবিচার ও মূল্যবোধের সংকট হয়েছে, তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা মোকাবিলা করেছে। তাই উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ অপরিহার্য।’’

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘মাদক পাচার ও চোরাচালানে নারীদের, শিশু ও কিশোরদের ব্যবহার ভয়াবহ একটি সমস্যা। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।’’

সমস্যার সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচার একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সামাজিক আন্দোলন ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।’’

তিনি বিশ্বব্যাপী নতুন ধরনের সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকদ্রব্যের উদয় সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘‘নতুন মাদকদ্রব্য মোকাবেলায় কৌশল এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোকে আইনের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে এবং নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।’’

অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ-এর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী বলেন, ‘‘মাদকাসক্ত পরিবারের সদস্যদের অবস্থায় কেউ না হলে তার গভীরতা বোঝা সম্ভব হয় না। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ কমে গেছে, যা পুনরায় জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।’’

জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘‘মাদকের উৎপাদন বাংলাদেশে না হলেও পাশ্ববর্তী দেশ থেকে পাচারের মাধ্যমে এটি দেশে প্রবেশ করছে এবং যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। তাই সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করতে হবে।’’

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় এবং বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনির এবং বার্ষিক মাদক প্রতিবেদনের মোড়কও উন্মোচন করা হয়। তার আগে একই দিনে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই পরিকল্পনা ও উদ্যোগসমূহ মাদকবিরোধী যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দেশের যুব সমাজকে সুরক্ষিত ও মাদকমুক্ত রেখে উন্নত ভবিষ্যতের জন্য পথ উন্মুক্ত করবে।