ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার অনন্য ঐতিহ্য ও গুণগত মান পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং এর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। মাদ্রাসা শিক্ষাকে অতি আধুনিকতার নামে বাধাগ্রস্ত বা অবমূল্যায়ন করতে দেওয়া চলবে না। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা, যা অটুট রাখা দরকার।

এই কথা তিনি বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকার আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ধারা: চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন। এখানে বাংলাদেশ মাদ্রাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ সেমিনারটির আয়োজন করে।

ড. খালিদ হোসেন বলেন, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যুগ যুগ ধরে সমগ্র ভারত উপমহাদেশে ইসলামী জ্ঞান, মূল্যবোধের বিকাশ এবং চিন্তার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিছু ত্রুটি থাকলেও এর অবদান অপরিসীম।

তিনি আরো বলেন, কোলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত মোট ৮৬ বছর পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষিত আলেমরা ভারতের জ্ঞানের মশাল হিসেবে কাজ করেছেন। এ ধারাটি এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।

ড. খালিদ সকলকে হীনমন্যতার ভাব থেকে মুক্ত হয়ে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং যারা মাদ্রাসা শিক্ষাকে বন্ধ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন চালানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি সকলের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেন ফ্যাসিবাদ আবারো সৃষ্টি না হয়।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হতাশা ত্যাগ করে আশাবাদী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ষোল বছর ধরে মাদ্রাসা শিক্ষাকে কিছু পরিমাপে অবদমিত করা হয়েছিল। যদিও সাধারণ বিষয়ের ওপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স কোর্স ছিল ইতিবাচক, ইসলামি স্টাডিজ, আরবি সাহিত্য, ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যেত। তবে বর্তমানে এই নেতিবাচক ধারাটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এখন বিকশিত হচ্ছে।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ আলী, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন অধ্যাপক মো. অলিউল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।