ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা জন ফেলান বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সচিব জন ফেলান তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ থেকে অপসারণ হয়েছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে ফেলান ঐতিহাসিকভাবে প্রশাসন ছাড়ছেন এবং তার স্থলে নৌবাহিনীর আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাওকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এটিকে পদত্যাগ হিসেবে দেখানো হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো তাকে মূলত বরখাস্ত করা হয়েছে বলেই জানাচ্ছে।

পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ফেলানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে অবনতি তুলেছিল, এবং শেষপর্যন্ত সেই মনোভাবই তাকে অপসারণের সিদ্ধান্তে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। প্রশাসনের ভেতরে অনেকেই মনে করতেন হাং কাওই বর্তমানে নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক হিসেবে বেশি উপযুক্ত ও যোগ্য। কয়েক দিন ধরে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে ফেলানের অবস্থান নিয়ে তর্ক-তলব করেই এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।

কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণও সামনে এসেছে। একটি হলো সিনেটর মার্ক কেলি যখন সামরিক সদস্যদের ‘অবৈধ নির্দেশ না মানার’ পরামর্শ দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষিতে ফেলান যথেষ্ট কঠোর ও স্পষ্ট নিবেদন করতে পারেননি—এটি বিশেষত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের কাছে সমস্যা তৈরি করেছিল। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে হেগসেথের ডেপুটি স্টিফেন ফিনবার্গের সঙ্গে ফেলানের তীব্র মতানৈকের কথাও আলোচিত। পেন্টাগনের ভেতরে নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে অসঙ্গতি উল্লেখ করেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভ্যন্তরীণ সূত্ররা।

এই নাটকীয় পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যুক্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন অবরোধ নীতি ও কূটনৈতিক চাপের কারণে নৌবাহিনীর ভূমিকা বর্তমানে বেশি গুরুত্বপূর্ন বলে ধরা হচ্ছে। যদিও সেন্টকম ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ সামরিক অভিযানের কৌশলগত নেতৃত্ব দেবে, তবু শীর্ষ বেসামরিক নেতৃত্বে এই রদবদল সামগ্রিক প্রতিরক্ষানীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে হাং কাও ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং পেন্টাগন পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বিবরণ সামনে আসতে পারে।