ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিএনপির তদন্ত কমিটি গঠন

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায়, বিএনপি দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (১৪ জুলাই) বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান অফিসে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং কিছু অসাধু মহল জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমাদের বিশ্বাস, এই মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডকে দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিতে এবং দুষ্কৃতকারী কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’’

ফখরুল জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি দক্ষ ও উপযুক্ত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করবে।

তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বিএনপির সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ও শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে খলনায়ক হিসাবে উপস্থাপন করার জন্য মিথ্যাচার করা হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’

ফখরুল আরও বলেন, ‘‘দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা মিটফোর্ড এলাকার লাল চাঁদ সোহাগ নামে ভাঙারি ব্যবসায়ীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।’’

তিনি জানান, যদিও সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও পুলিশ জানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাপালন অনুযায়ী আজীবন বহিষ্কারের যে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ, তা গ্রহণ করেছে বিএনপি।

বিএনপি নেতা আরও জানান, নিহতের পরিবার ইতিমধ্যে মামলার বিবৃতিতে অসঙ্গতির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসল অপরাধীদের বদলে তিন জনের নাম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে, নির্মম হত্যার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের এখনও চিহ্নিত বা গ্রেফতার করা যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি।