বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচিই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার রক্ষাকবচ।
বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল স্মরণ করেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য স্থান অধিকার করেন। তিনি ছিলেন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের এক দক্ষ নির্দেশক, এবং তাঁর আহ্বানে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও তরুণরা বিজয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে আসে। জয়ের পরও তৎকালীন অগণতান্ত্রিক শাসন ও নির্যাতনের ফলে জনজীবনে বিশৃঙ্খলা ও কলহ সৃষ্টি হয়, নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয় এবং সংবাদপত্রসহ বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা হস্তক্ষেপের শিকার হয় — এসব কথা বর্ণনা করেছেন মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল জানান, সেই অস্থিতিশীল সময়ে সিপাহি ও জনতার ঐকমত্যে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয় এবং তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি বহু দলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন, সংবাদপত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, জিয়ার নীতিতে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব ও স্বচ্ছতা স্পষ্ট ছিল, যা তাঁকে জনবিশ্বাস যোগায়।
মহাসচিব শহীদ জিয়াকে সেদিনের চক্রান্তকারীদের নীতিহীন ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে একজন মহান দেশপ্রেমিককে হারায় জাতি। তবু জিয়াউর রহমান হলো এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যাকে জনগণের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় অবস্থান থেকে মুছা যায় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদ জিয়ার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দেখানো পথ ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং দেশবিরোধী শক্তির মোকাবিলা করেছেন। জিয়ার আদর্শ ও স্বীকৃত কর্মদর্শনই বিএনপির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।
বিগত শাসনামলকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের কিছু ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছে; গুম, খুন, নির্যাতন ও অর্থপাচারের অভিযোগ ছিল তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার। সেই অবস্থা থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ছাত্র-জনতা, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে — এমনটি তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা জরুরি।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-জোট সরকার গঠিত হলে তারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবে। গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা ও পুনর্গঠনে শহীদ জিয়াকে অনুসরণ করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
ফাইনালে মহাসচিব দেশজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণকে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার আহ্বান জানান।







