ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মেক্সিকো ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূকম্পন — যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অনুভূত তরঙ্গ

উত্তর আমেরিকার দুই প্রান্তে একই দিনে শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে রিখটার স্কেলে ৬.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই কম্পনের উৎপত্তি মেক্সিকোর এল প্রোগ্রেসো শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বড় ধরনের হতাহত বা বৈপ্লবিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

একই সময় সাগরের উল্টোদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ভ্যালির কাছাকাছি ৫.৬ মাত্রার একটি মাঝারি তীব্রতার ভূকম্পন অনুভূত হয়। ইউএসজিএস জানায়, মেনডোসিনো কাউন্টিতে এই কম্পন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ মাইল (প্রায় ৮ কিলোমিটার) গভীরে উৎপন্ন হয়েছিল।

বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিকভাবে ভূকম্পনের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ইউএসজিএস-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৯ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আকারে ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার অন্তত ৯৩টি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ‘‘ডাবলেট’’ ভূকম্পন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—সেখানে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী কম্পন ঘটে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। ‘‘ডাবলেট’’ বলতে সাধারণত প্রায় একই সময়ে ও নিকটবর্তী স্থানে ঘটে এমন দুইটি কাছাকাছি মাত্রার ভূকম্পনকে বোঝায়; এই ধরনের সংকরণ সাধারণ ভূকম্পনের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক কম্পনগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবা বিষয়ক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নজরদারি করছে এবং জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আরও তদন্ত ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এবং প্রভাব নিরূপণ করা হবে।