ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের ২০% পাল্টা শুল্ক কার্যকর, চট্টগ্রাম বন্দরে রফতানিতে উচ্ছ্বাস

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত বাংলাদেশি পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে রফতানিতে চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে অনেক রফতানিকারক আগাম পণ্য প্রেরণ করে শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা করেন, যা চট্টগ্রাম বন্দরকে রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যস্ততায় রাখে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রফতানিকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়ার কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০০ কনটেইনার অতিরিক্ত রফতানি হচ্ছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্দরের ১৯টি ডিপোতে ১৫,৪০০টি ২০ ফুট এককের কনটেইনার জমা রয়েছে, যার অধিকাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমুখী।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, শুল্ক কার্যকর হওয়ার পূর্বে ৭ আগস্টের মধ্য পণ্য পাঠানোর প্রচেষ্টা বেশ জোরদার ছিল, বিশেষ করে যারা পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকে উৎপাদন সম্পন্ন করেছিলেন, তারা ১ আগস্টের আগেই রফতানি নিশ্চিত করেছেন। ফলে শুধু জুলাই মাসেই রফতানিতে ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।

চট্টগ্রামের এশিয়ান-ডাফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম বলেন, জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার, যার মধ্যে ৮২ কোটি ডলারের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এ রফতানির ৬০ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনেন। পরে ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তৃতীয় দফা আলোচনার পর এক চুক্তির মাধ্যমে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই গড়ে ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক ছিল, ফলে মোট শুল্ক ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময়কাল গণনায় বন্দরের পণ্য ছাড়ার সময় থেকে হিসাব করা হয়। এপ্রিলেও একই নিয়মে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি শুল্ক কার্যকর হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত কাঁচামালের উপর শুল্ক ছাড় থাকায় বাংলাদেশ তুলানির্ভর পোশাক খাতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

কনটেইনার ডিপো সমিতির মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, পাল্টা শুল্ক এড়াতে রফতানিকারকরা আগেভাগেই কনটেইনার পাঠিয়েছেন, যার ফলে আগস্ট মাসেও আমেরিকান বাজারমুখী রফতানি বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, সাধারণত মাসে ৬০-৬৫ হাজার কনটেইনার রফতানি হয়, কিন্তু জুলাই মাসে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার কনটেইনারে, যার মধ্যে ৮১ হাজার ইতিমধ্যে রফতানি সম্পন্ন হয়েছে।

সমগ্র বাণিজ্য খাতে এই পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশিরা নতুন বাজার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রফতানি বৃদ্ধি করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।