২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় হতাশায় ছিল বাংলাদেশ যুব দল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে দেশে ফিরে আসে তামিমের নেতৃত্বাধীন দল। সেই আঘাত ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ঘরোয়া ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর বিসিবি বদলাতে চায় পদ্ধতি ও প্রস্তুতিতে। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ৪৫ জন উদীয়মান খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেনিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একই সময় সাবেক লঙ্কান প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হওয়ার পর যুব দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে নবাগত প্রধান কোচ হান্নান সরকারকে।
নতুন কোচের অধীনে রোববার থেকে শুরু হচ্ছে একান্ত যাত্রা—সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) টানা ২১ দিনের একটি নিবিড় স্কিল ক্যাম্প। প্রাথমিক অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আনার লক্ষ্যে মোট ৩০ জন প্রতিভাবান তরুণকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এই ক্যাম্প।
ক্যাম্পে খেলোয়াড়রা কন্ডিশনিং ও ফিটনেসের পাশাপাশি ব্যাটিং টেকনিক, বোলিং বৈচিত্র্য ও আধুনিক ফিল্ডিংয়ের নিখুঁত কৌশলগুলো নিয়ে কাজ করবেন। কোচরা প্রতিটি ক্রিকেটারের সক্ষমতা মূল্যায়ন করে দলের ভারসাম্য ঠিক করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। মূল লক্ষ্য—২০২৮ যুব বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ও সুষম কোর টিম তৈরি করা।
বিসিবি যুব ক্রিকেটের পাইপলাইন আরও শক্ত করার উদ্দেশ্যে হান্নান সরকারের কোচিং প্যানেলে একঝাঁক অভিজ্ঞ দেশি কোচ যোগ দিয়েছেন। প্রধান কোচ হান্নান সরকারের সঙ্গে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন সাবেক জাতীয় দলের পেসার ডলার মাহমুদ। ফিল্ডিং উন্নত করতে দলের সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ সেলিম ও আরশাদ খান।
এই ক্যাম্পটি কেবল বর্তমান পর্যায়ের উন্নয়ন নয়—এটি বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায় শুরু করার উদ্যোগ। ধারাবাহিক প্রশিক্ষন ও পরিকল্পিত নির্বাচনের মাধ্যমেই বোর্ড আশা করছে, আগামী বিশ্বমঞ্চে যুবরা আগে থেকে অনেক বেশি প্রস্তুত ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।








