বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে জারি করা অসহযোগিতা বা বয়কট নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মুম্বাইয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)-র সভাপতি বি. এন. তিওয়ারি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সিদ্ধান্তটি কার্যত সিনেমা অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিন্টা) ও ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইম্পা)-র বিশেষ অনুরোধ ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যস্থতার পর নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রণবীরের ওপর থাকা আইনি ও সাংগঠনিক বাধাগুলো দূর হলো।
এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল ফারহান আখতার পরিচালিত ‘ডন ৩’ সিনেমার কারণে—অভিযোগ করা হয়েছিল যে রণবীর শেষ মুহূর্তে এই বড় প্রজেক্ট থেকে নিজে সরিয়ে নিয়েছেন। গত ২৫ মে এফডব্লিউআইসিই ওই সময় রণবীরের বিরুদ্ধেই অসহযোগিতার নির্দেশ জারি করে, যা একটি পরোক্ষ বয়কট হিসেবে দেখা হয়। নির্দেশ জারির পর রণবীর নীরব ছিলেন না; তিনি সংগঠনটিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং পরিস্থিতি আদালতে পর্যন্ত গড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে এফডব্লিউআইসিই-এর প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত বলেন, রণবীরের পাঠানো আইনি নোটিশ তারা পেয়েছেন এবং তাদের আইনজীবীরা সেই নোটিসের যথাযথ জবাব দেবেন। তবে একই সঙ্গে তারা রণবীরকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে সংগঠনটি শিল্পীদের সম্মান করে এবং কাউকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাদের আশা, রণবীরের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এলে বিষয়টি সম্মানজনকভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
এদিকে দীর্ঘসূত্রিত আইনি ধাক্কাও পড়েছে—প্রবীণ প্রযোজক টি. পি. আগারওয়াল এফডব্লিউআইসিই-এর নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বম্বে সিভিল কোর্টে একটি আবেদন করেছেন। তাঁর যুক্তি, কোনো ট্রেড বডি বা সংগঠনের আইনি কর্তৃত্ব নেই কাউকে নিষিদ্ধ করার জন্য; এই আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর ফলে সংগঠনগুলোর ওপর মানসিক ও আইনি চাপ তৈরি হয়েছে।
নির্দেশ প্রত্যাহারের ঠিক আগে প্রডিউসার্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া একটি বিবৃতি প্রকাশ করে—যেখানে তারা নির্দিষ্ট কোনো নাম না বলে শিল্পীদের প্রজেক্ট থেকে শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। গিল্ড বলেছে, এমন আচরণ প্রযোজকদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে এবং চলচ্চিত্র শিল্পের পেশাদার পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা ক্ষুণ্ণ করে।
রণবীরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে আপাতত বলিউড পাড়ায় শিথিলতা দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য সরাসরি আলোচনা ও সম্মতিমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে জরুরী—এবং সেটাই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লক্ষ্য।







