ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রাজশাহীতে মাসব্যাপী কুটিরশিল্প মেলা শুরু

রাজশাহীতে এই প্রথমবারের মতো মাসব্যাপী ১৮তম বস্ত্র ও কুটিরশিল্প মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, নগরীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার উত্তর পাশে মাঠে এই উজ্জীবিত উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়েব রাজশাহীর সভাপতি মোসা. আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি। এই মেলার উদ্বোধনের জন্য ফিতা কাটার পাশাপাশি উজ্জ্বল বেলুন উড়িয়ে একটি সুখকর 분위ির সৃষ্টি করা হয়। ওয়েব রাজশাহীর ২২তম বর্ষপূর্তীর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উৎসব চলবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি হাসেন আলী, জাতীয় দৈনিকের পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, এডিটর আকবারুল হাসান মিল্লাত, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক পরিচালক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির রাজশাহী শাখার সভাপতি মরিয়ম বেগম।

অতিরিক্তভাবে, সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা ও নারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অতিথিরা এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। মোট ৪৫টি স্টলে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন সামগ্রী, যেখানে দেখা যাচ্ছে বেত ও বাঁশের তৈরি পণ্য, সিরাজগঞ্জের তাঁতবস্ত্র, গার্মেন্ট পণ্য, ক্রোকারিজ, সুখাদ্য ও উপহার সামগ্রীসহ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের নানা পণ্য। দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলি ছাড়াও আধুনিক ও নান্দনিক ডিজাইনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের তাঁতবস্ত্র ও কুটিরশিল্প মেলা সরাসরি বিক্রয় ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে, যেখানে উদ্যোক্তারা মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় তাদের ন্যায্য মূল্য পায়। এটি কারিগরদের উৎসাহিত করে পুনরায় চেষ্ঠা চালানোর জন্য, পাশাপাশি দেশীয় পণ্যপ্রেমিক জনগণের আগ্রহ বাড়ে এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমে।

দর্শকেরাও এই মেলাকে ইতিবাচক মনে করছেন। তারা বলেন, এখানে একসাথে দেশের বিভিন্ন হস্তশিল্প ও তাঁত পণ্য দেখা যাচ্ছে, যা কেনাকাটাকে সহজ করে তুলেছে। এছাড়া, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও আধুনিক ডিজাইনের সমন্বয় বিশাল প্রভাব ফেলেছে নতুন প্রজন্মের মনোভাব ও ঐতিহ্য রক্ষার ব্যাপারে। এই মাসব্যাপী তাঁতবস্ত্র ও কুটিরশিল্প মেলা রাজশাহীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আশা করছে।