স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও কোনও ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা থাকবেনা বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি দৃঢ়ভাবে বলেন, গুমের সাথে জড়িত যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।এছাড়া তিনি গুম ও ‘আয়নাঘর’-এর ভয়াবহতা নিয়ে অতীতের দৃষ্টান্ত স্মরণ করে বলেন, অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দমনের জন্য মানুষকে নির্বিচারে তুলে নেওয়া হতো। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার অজুহাতে রাষ্ট্রীয় নানা সংস্থা এসব অপরাধের দায় অস্বীকার করত। বক্তৃতায় তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন এবং ব্যারিস্টার আরমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমীরের স্মৃতি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের সময় দেশের বাইরে ফেলে দেয়ার লোমহর্ষক ঘটনা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত আরেক হাজার পাঁচশো এইসট্টি (১৫৬৯)টি ঘটনার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ বা মৃত। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে গুম ও হত্যা করতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার পাল্টি এখন। গুমের প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুমকে অবিলম্বে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’উত্থাপন করা হয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। রাষ্ট্রপতি আশ্বাস দেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সভাপতিত্বে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









