ঢাকা | সোমবার | ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শহীদ জিয়ার পথই গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথই দেশের উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রক্ষাকবচ। সোমবার নয়, শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর অবদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসাবে জিয়াউর রহমান জাতির ইতিহাসে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। ২৬ মার্চের স্বাধীনতাসংক্রান্ত বিভোর সময়ের আবেগ ও তেজে দেশের তরুণ-ছাত্র-শ্রমিক ও অন্যান্য সাধারণ মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন—তারই মনোবল ছিল স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ এক শক্তি।

স্বাধীনতার পর সময়ে ঘটে যাওয়া অরাজকতা ও অগণতান্ত্রিক শাসনের ফলে নাগরিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে—এমন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সেই পরিস্থিতিতেই সিপাহি ও সাধারণ মানুষের মিলিত প্রতিরোধে জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয় এবং তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। গণমাধ্যম ও নাগরিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত করে তোলেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক নীতিও বিশেষভাবে প্রসঙ্গভুক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, জিয়া স্বেচ্ছাশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়ানোর নীতি শুরু করেন এবং দেশের কৃষি-উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানির ভিত্তি গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান ও স্বচ্ছতা তাকে জনসমক্ষে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সংঘটিত শোকাবহ হত্যাকাণ্ডে জাতি একজন বিশিষ্ট দেশপ্রেমিককে হারায়—এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক, সেনানায়ককে হত্যা করে তাঁর ভাবনা-মতকে শেষ করা যায় না; তিনি জনগণের মনে চিরজাগ্রত থেকে যান। তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করে বহুদিন দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পুরস্কার ধরে রাখতে চেষ্টা করেছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে গত কয়েক দশকে ক্ষমতাসীন দল দেশের মানুষে ভয়-ভীতি ও দমননীতি চালিয়ে গ্যালেছে, গুম-নির্যাতন, সম্পদের অবৈধ পাচার ও দুর্নীতি ঘটেছে—যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করেছে। তিনি বলেন, ছাত্র, শ্রমিক ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে; সেই সংগ্রামের ফলে অর্জিত অধিকার ও বিজয় রক্ষা করা এখন সবাইর দায়বদ্ধতা। (বক্তৃতায় তিনি কিছু ঘটনাবলীর উল্লেখ করেন, যা বিএনপির দৃষ্টিকোণে গৃহীততত্ত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।)

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি-জোট সরকার গঠিত হলে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল ও টেকসই করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শহীদ জিয়ার জীবনের আদর্শ ও নীতিকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাণীর শেষে মির্জা ফখরুল দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।