ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শেরপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ষাড়ের মই দৌড় খেলা

ষাড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতা শেরপুরের কৃষকদের অন্যতম প্রিয় বিনোদন। যদিও বিভিন্ন কারণে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে, তবুও শুকনো মৌসুমে শেরপুর জেলায় নানা স্থানে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন চলে। শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর নাগপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয় এই মই দৌড় খেলা, যেখানে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করে।

ষাড়ের মই দৌড় খেলা শেরপুরের কৃষকদের মাঝে খুবই জনপ্রিয়। শুকনো মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থানে সময়ে সময়ে এই প্রতিযোগিতা হয়, যা দেখতে আসে হাজার হাজার মানুষ — বয়স্ক থেকে শুরু করে যুবক-শিশু সবাই। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি অনেকেই প্রথম বার দেখেন এবং দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হন। প্রতিটি খেলার জায়গায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সম্প্রতি ১৯ জানুয়ারি চরশেরপুর নাগপাড়ায় এমন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয়রা মেতে উঠে খেলার রোমাঞ্চে।

প্রতিযোগিতায় একটি মইয়ে চারটি ষাড় বা গরু থাকে। প্রতিযোগিতায় দুটি করে মই অংশ নেয়। অনেক সময় নির্ধারিত দৌড়ের পথ থেকে মইগুলি বিচ্যুত হয়ে গেলে সেই মইকে আউট ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় দুই ময়াল ব্যক্তি থাকেন, যারা ষাড় গুলোয় নিয়ন্ত্রণ রাখেন। তিনজন ধরাল ব্যক্তি এবং একজন রেফারি খেলাটি পরিচালনা করেন। রেফারির বাঁশি ফুঁকতেই ষাড় গুলো দৌড় শুরু করে, আর বিজয়ী মই পেলে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। উপস্থিত হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুর চিৎকার ফোঁটা মুখর করে পুরো এলাকা। ময়ালরাও খেলা পরিচালনায় খুব খুশি থাকেন।

গ্রাম বাংলার এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে রক্ষা করতেই এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করাতে নাগপাড়ায় প্রথমবারের মতো এই খেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের সাড়া পেয়ে ভবিষ্যতেও এই ষাড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বিভিন্ন স্থান থেকে মোট আটটি মই দৌড় দল এই খেলায় অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার চন্দনপুর এলাকার হাবু বেপারি দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী ও উপবিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সফিকুল ইসলাম, এবং উপস্থিত ছিলেন জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সাইম, শিক্ষক আসমত আলীসহ আরও অনেকে।

আয়োজক আসমত আলী বলেন, “কৃষক, শ্রমিক এবং মেহনতি মানুষের মাঝে এই খেলার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ থাকায় আমরা প্রতিবছর এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করব।”