ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে জয়ী হয়ে বসার পর দুই হিন্দু সাংসদ জোর দিয়ে বলেছেন, সংখ্যালঘুরা নতুন সরকারের ওপর ভরসা রাখতে পারবে। ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) থেকে জেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং مাগুরা-২ থেকে জয়ী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী—উভয়েই সমান নাগরিকত্ব এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ (মহাম্মদপুর, শালিখা ও মাগুরা সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নিকট আত্মীয় (বিয়ে-সম্পর্কে)। নির্বাচনে বিশাল নৌকার বিপরীতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় জয় পাওয়ার পর নিতাই বলেছেন, স্থানীয় হিন্দু ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনই তার জয়ের অন্যতম কারণ। তিনি দ্য ওয়্যারকে বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায় আমাদের প্রতি ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে। তারা দেশে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। বিএনপি তাদের নিঃশর্ত সমর্থন সবসময় সম্মান করবে।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যিনি ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ এলাকার স্থানীয় সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, নির্বাচনে জেতার পর ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেন। ১৯৯১ সালের খালেদা জিয়ার সরকারের সময় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সেই অভিজ্ঞ নেতা বলেছেন, ‘আমি হিন্দু হিসাবে জন্মেছি, কিন্তু আমার প্রথম পরিচয় বাংলাদেশি।’ তিনি বলেন, তাকে শুধু হিন্দুরাই নয়, সব ভোটারই বেছে নিয়েছেন এবং তিনি সকল নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।
গত এক বছর দেড়েক ধরে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্ক নাজুক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারত বারবার বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও মন্দির বা হিন্দু মালিকানাধীন সম্পত্তি লক্ষ্য করে হওয়া ঘটনার ওপর উদ্বেগ জানিয়েছে। এ দাবি অস্বীকার করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, এসব ঘটনা ধর্মীয়ভাবেই সংঘটিত হয়নি; বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গয়েশ্বর ও নিতাই দুইজনই সমান নাগরিকত্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে নতুন সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর আস্থা অর্জনের আশা জাগাচ্ছেন। তারা বলছেন, ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ভাগ করা হবে না। পাশাপাশি বিএনপি চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে বৌদ্ধ প্রার্থীদের নিয়েও দুটি আসন জয় করেছে, যা দলটির বহুবর্ণ পরিচয়ের প্রতিফলন বলে তারা মনে করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অভিযোগিত নির্যাতন বা অন্যায় বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনের মাধ্যমে সমাধান হবে। তিনি বলেন, ‘উত্তরটি গনতন্ত্রের মধ্যেই রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া কেউ তার অধিকার ভোগ করতে পারে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও স্বাধীনতা অর্জনে যারা সহযোগিতা করেছে—তাদের ভূমিকাও আমরা ভুলব না।
জাতীয় আদমশুমারি ও আবাসন জরিপ-২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর পরিমান প্রায় ১৩.১ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়্যার








