নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে তার ওপর ভিত্তি করেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি বা রেফারেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে কমিশন—স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংসদের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও চিঠি হাতে পেলেই ইসি বিষয়টি আইনি দিক থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করবে এবং তারপর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মাছউদ স্পষ্ট করেন যে সংবিধান ও প্রক্রিয়াগত আইনের আলোকে যদি কোনো সংসদ সদস্য নিজে নিজের দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো দল যদি সদস্যকে বহিষ্কার করে, সেই কারণেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমপি পদ বাতিল হওয়ার আইনি সুযোগ নেই। ফলে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কেবল দলের বহিষ্কারের খবরই যথেষ্ট নয়—জাতীয় সংসদের স্পিকারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি থাকলে ইসি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
তিনি আরও জানান, সংসদ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও তথ্যপূর্ণ চিঠি পেলেই কমিশন প্রাসঙ্গিক আইনটি প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একই সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মাছউদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করছে এবং চলতি বছরের অক্টোবর লক্ষ্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নতুন গঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন থেকেই ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় কমিশন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি, বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বের বিষয় বিবেচনা করে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে—এমনটাই জানান নির্বাচনী কর্মকর্তা।







