দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হবে। রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ড. হায়দার জানান, এই নতুন ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুজন করে মিডওয়াইফ নিযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, বর্তমানে পরিচালিত ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিত করে ‘স্বাস্থ্য হাবে’ রূপান্তর করা হবে, যাতে এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আলাদা কোনো ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ ব্যবস্থা থাকছে না। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের পাইলট হিসেবে খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়া জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়েও তিনি জানান, আগামী একনেক সভায় ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পের অনুমোদন পাবে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার এডিবি দেবে এবং অবশিষ্ট ৩০ মিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। এছাড়া, দেশের সকল নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রাথমিক কার্যক্রমও এই পাঁচটি জেল থেকেই শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্পষ্ট করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণেই হামের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটা সত্যি এবং পরিষ্কার। এর জন্য আলাদাভাবে কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই।”
সরকার আরও বলেছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও গণমুখী ও আধুনিক করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে দেশবাসীর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।








