ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের হাজারো সমস্যা, ওষুধ বাণিজ্যে তদন্ত চলছে

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সরকারি হাসপাতালের সুযোগ সুবিধার বদলে টাকা-পয়সা দিয়ে ওষুধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো, কমিশনবাজি, হুইলচেয়ার ব্যবসা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রদানের অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে সঠিক চিকিৎসা পেতে গিয়ে রোগীরা ক্ষোভে আত্মহারা।

সাম্প্রতিক ঘটনায় হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড বয় হরষিত সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে সেনাবাহিনীর তদন্তে জড়িত হয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, হরষিত ছয় থেকে সাত মাস আগের ডাস্টবিন থেকে পেয়েছে কিছু সরকারি ওষুধ, যেগুলো হাসপাতালের রোগীদের অজান্তেই বিক্রি করেছেন। এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী জানান, ঈদের পরদিন তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিলো। ডাক্তার ওষুধ সাপ্লাই না থাকার কথা বলায় বাহির থেকে ওষুধ সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু হরষিত কম দামে একই ওষুধ বিক্রি করায় তারা সমস্যায় পড়েন। আরও জানা যায়, ওই ওষুধগুলো ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ, যা তার স্ত্রীর শরীরে জ্বালা-পোড়া ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

হরষিত স্বীকার করেছেন, তিনি ডাস্টবিন থেকে পাওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো বিক্রি করেছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং আইনের চোখে অপরাধ। এই ঘটনায় হাসপাতালের কার্যক্রম এবং তদারকিতে বড় ধরনের অবহেলার দৃষ্টিস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রোগীরা অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের প্রতিটি সেবা পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়, যেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফি নেওয়া এবং হুইলচেয়ার ব্যবহার করিয়ে টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায় করা হয়। এভাবে সরকারি হাসপাতালে বাণিজ্য পরিচালনা করা রোগীদের জন্য বড় রকমের দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল জানান, এসব বিষয়ে তারা বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালের ওষুধ স্টোর থেকে সুষ্ঠু ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতে খোদা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত না থাকার কথা জানিয়ে বলেন, পুলিশ বা রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত বিচার করে হাসপাতালের সেবা মানে উন্নতি আসবে।

এই ঘটনা সামনে এনে চিকিৎসার গুণগত মান ও রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। রোগীদের সুলভ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হবে আসল অর্জন।