সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেখানে ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং তা যাচাই করার জন্য ‘অ্যাসেসমেন্ট টুলস’ প্রয়োগ শুরু হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে ছয় মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চালু হবে।
এই টুলসের মাধ্যমে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার মান, মেধার বিকাশ, স্কুলে উপস্থিতি ও পরিবেশ পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি স্কুলে পাঠদানের পদ্ধতি ও শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরো উন্নত করার জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যা প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা, উপজেলা এবং বিভাগ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় কমিশনাররা স্ব স্ব এলাকায় এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
অ্যাসেসমেন্ট টুলস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে।
২৫ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (নীতি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই টুলসের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শেখার অবস্থা নির্ণয় করা হবে এবং তা অনুসারে স্তরভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শেখার অবস্থার মূল্যায়ন সম্পন্ন করবেন। এরপর শিখন ঘাটতি দূরীকরণে নির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
অ্যাসেসমেন্ট চলাকালীন সময়ে একটি বিদ্যালয়ের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মান পুনরায় যাচাই করা হবে এবং তাদের শিখন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রতি কার্যদিবসে একটি শ্রেণির একটি বিষয়ের এসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বৃহৎ বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত দিনও চালানো যেতে পারে। এসেসমেন্ট চলাকালীন অন্যান্য শ্রেণির পাঠদান অব্যাহত থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ‘সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ যত্ন নিচ্ছে। এই টুলসের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী ছাড়াও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শেখার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।’









